ব্লগিং কি? ব্লগিং করে আয় করার সহজ উপায় [মাসে অন্তত 50 হাজার]

অনলাইনে আয় করতে চাইলে আপনি ব্লগিং করে আয় করতে পারেন। অনলাইন থেকে আয় করার যতগুলো উপায় আছে তার মধ্যে ব্লগিং হলো সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। আপনাদের মাঝে ব্লগিং সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও গাইডলাইন দেব।

অনলাইন থেকে ইনকাম করার জনপ্রিয় মাধ্যম ব্লগিং করে আয় করতে চাইলে এই লেখাটি শেষে পর্যন্ত পড়তে হবে।

ব্লগিং কি? What is blogging

অনলাইনে ওয়েবসাইট খুলে লেখালেখি করাকেই ব্লগিং বলে। বর্তমানে এখন অনলাইনে ব্লগিং করে ইনকাম করা সহজ না হলেও যারা লেখালেখিতে ভালো দক্ষ তাদের জন্য বর্তমানে ব্লগিং করে আয় করাটা একটা প্যাশন হিসেবে বলা যায়।

আপনাদের মধ্যে অনেকের লেখালেখির অনেক ভালো অভিজ্ঞতা থাকে।  আপনাদের মধ্য এরকম অনেকেই আছেন, যারা চাকরি করছেন কিন্তু ভালো আর্টিকেল লিখতে ভালোবাসেন।

তাদের জন্য অনলাইন থেকে ব্লগিং করে আয় একদিকে যেমন, বাড়তি ইনকামের সুযোগ সুবিধা তেমনি বর্তমান সমাজে কিংবা দেশে একজন নামকরা লেখক হওয়ার সুযোগ তো আছে ।

ব্লগিং করে আয় করার উপায়
ব্লগিং করে আয় করার উপায়

এখন বর্তমানে একটি ব্লগ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। ব্লগ থেকে অনলাইন ইনকামের যতগুলো পদ্ধতি আছে, তার মধ্যে পদ্ধতিগুলো বেশ জনপ্রিয় তা নিচে দেখানো হলো:

  • ব্লগে বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা ইনকাম।
  • গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে আয়।
  • ব্লগে প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং করে অর্থ আয়।
  • ব্লগ দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা।
  • অন্যকারো ব্যাক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানে ব্লগ লিখে আয়।

ব্লগে বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা ইনকাম

ব্লগে বিজ্ঞাপন দিয়ে অনলাইন থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় বা যাবে সেটি আপনাদের মাঝে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হবে। আপনারা যদি প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেন তাহলে আপনারা আজ থেকেই ব্লগিং করে আয় কাজে নেমে যেতে পারবেন।

ব্লগিং করে আয় প্রতিটি ধাপ শুরু করার আগে  ব্লগে লিখে কিভাবে আয় করা যায় তা নিয়ে আরও আপনাদের বুঝার স্বার্থে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দিয়ে আয় করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে একটি ব্লগসাইট খুলতে হবে। ব্লগসাইট হলো এমন একটি ওয়েবসাইট যেখান থেকে আপনি আপনার নিচের লেখা আর্টিকেল গুলো পাবলিশ করবেন। বর্তমানে এখন এজন্য এটিকে ওয়েবসাইট থেকে আয় করাও বলা হয়ে থাকে।

বর্তমানে ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে হলে, ভালো মানের আর্টিকেল লেখা পাবলিশ করার পর মোটামুটি আপনার আস্তে আস্তে ওয়েবসাইটটি জনপ্রিয় হলে। আপনার ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন এর জন্যগুগল এডসেন্সে জন্য আবেদন করতে হবে।

দিয়ে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ব্লগে কি ধরনের লেখা লিখে আয় করবেন?

আপনার ব্লগে যেকোন ধরনের লেখালেখি করে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারেন। ব্লগিং বা ওয়েবসাইটে টাকা ইনকাম করার ক্ষেত্রে আপনি আপনার প্যাশন অনুসরণ করতে পারেন।

আপনি যে বিষয়ে ভালো লিখতে পারবেন বা লিখতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটে আপনি যা কিছু নিয়ে লিখতে পছন্দ করেন সেগুলো নিয়ে লেখাটায় সবচেয়ে ভালো। এক্ষেত্রে আপনাকে নিচে কয়েকটি বিষয় আমি দেখাতে পারি যেমন-

  • শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট খোলেও আয় করতে পারেন।
  • ক্যারিয়ার বিষয়ক ওয়েবসাইট খোলেও ইনকাম করতে পারেন।
  • ফ্যাশন রিলেটেড ওয়েবসাইট খোলেও আয় করতে পারেন।
  • খেলাধুলার ব্লগ লিখে আয় করতে পারেন।
  • রাজনৈতিক ব্লগ লিখে আয় করতে পারেন।
  • এডিটরিয়াল ব্লগ লিখে আয় করতে পারেন।
  • টেকনোলজি ব্লগ লিখেও অর্থ আয় করতে পারেন।

এরকম আরও বহু ব্লগ এ লেখার অপশন আছে যেগুলো বিষয় নিয়ে আপনার ব্লগে লিখলে আপনি সহজেই অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে আপনার নিজের ইচ্ছাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শুধুমাত্র ভিজিটর পাওয়াই উদ্দ্যেশ্য নয় বরং আপনার ওয়েবসাইট থেকে একটি ভালো এমাউন্ট আয় করাই উদ্দ্যেশ্য থাকতে হবে।

ওয়েবসাইট লেখালেখির ক্ষেত্রে নিজের পজিশন ধরে রাখুন। আপনি যে বিষয় নিয়ে লিখতে পারবেন বা যে বিষয়ে নিজের পারদর্শীতা আপনি সেটি নিয়েই লিখুন। আপনার ওয়েবসাইটে যেটি আপনার প্যাশন সেটি একদিন আপনার অনলাইন ইনকামের ভালো পেশাও হতে পারে।

আমাদের বাংলাদেশে ক্যারিয়ার বিষয়ক এবং রাজনৈতিক বা বিনোদন বিষয়ক ওয়েবসাইটের চাহিদা সব থেকে বেশি। চাইলে আপনি উপরোক্ত যেকোন একটি বিষয় নিয়ে লিখে অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন। এছাড়া আপনি একাধিক বিষয় নিয়েও আর্টিকেল লিখতে পারেন ৷

ব্লগিং করে আয় করুন

আপনি যদি ব্লগিং করে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম যে জিনিস টি প্রয়োজন হবে সেটি হল, কম্পিউটার প্রয়োজন পড়বে এবং সেটিতে অবশ্যই ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। ব্লগ লেখার জন্য অনলাইনে অনেকগুলো প্লাটফর্ম আছে। কিন্তু এখন বাংলাদেশে ব্লগ লিখে আয়ের ক্ষেত্রে দুটি প্লাটফর্ম খুবই জনপ্রিয়। প্লাটফর্ম দুটি হলো:

  1. ব্লগারে লেখালেখি করে আয়।
  2. ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ লিখে আয়।

প্রথম প্লাটফর্মটি হল Blogger এই সার্ভিসটি গুগলের। যাদের ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের তেমন জ্ঞান নেই তারা এই  ব্লগার প্লাটফর্মটি থেকে সহজেই ব্লগিং করে অনলাইন থেকে আয় করা শুরু করতে পারেন।

দ্বিতীয় প্লাটফর্মটি হল ওয়ার্ডপ্রেস যা Blogger এর চেয়েও অনেকটা আপডেটেড। যাদের ওয়েবসাইটের ভালো জ্ঞান আছে এবং যারা প্রফেশনাল ব্লগার হতে চান তাদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেস বেশি উপযোগী একটি মাধ্যম। আমরা আমাদের এই লেখায় গুগলের সার্ভিস Blogger এ ব্লগিং করে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় তা নিয়ে নিচে ভালোভাবে আলোচনা করবো ধাপে ধাপে।

ব্লগিং করে আয়: কিভাবে ব্লগ লিখবেন এবং ব্লগসাইটের নাম ঠিক করুন।

ব্লগিং করে আয় করতে গেলে প্রথমেই যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকে কোন বিষয় নিয়ে লিখবেন বা আপনার লিখতে ভালো লাগে। আর্টিকেল লেখার বিষয়টা অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে লেখালেখির বিষয়ের উপরই আপনার সফলতা নির্ভর করবে এবং আপনার অনলাইন ইনকাম এর উপর নির্ভর করবে।

ইনকামের আশায় আপনার ওয়েবসাইটে তাড়াহুড়ো না করে বরং নিজের ভালো লাগা খোজে বের করুন। প্রয়োজনে আপনি নোট করুন, আপনি কোন বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখতে চান ৷

লেখালিখি বিষয়টি ফিক্সড করা হয়ে গেলে সে অনুযায়ী আপনার ওয়েবসাইটের একটি সুন্দর ও ভালো নাম ঠিক করুন। আপনি যে নামে আর্টিকেল লিখবেন যেমন খেলাধুলা বিষয়ে বা বিনোদন বিষয়ে বা টেকনোলজি বিষয়ে ইত্যাদি সে অনুযায়ী একটা ভালো নাম ঠিক করে নিন ।

অনলাইনের ভাষায় তাকে বলে ডোমেইন ।কারণ আপনার ওয়েবসাইটে যে নামে মানুষ সার্চ করবে। ব্লগসাইটের নাম নির্ধারণে অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে।

  • ব্লগ থেকে আয়ের জন্য ওয়েবসাইটের নামটি হবে অর্থবহ।
  • ওয়েবসাইটের নামটি দুটি শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা শ্রেয়।
  • ওয়েবসাইটের নামে ডোমেইন এভেইলেবল কি না জানতে হবে।
  • নামটি পরিবর্তন করা যাবে না এই মর্মে ঠিক করতে হবে।

এছাড়া আপনার ওয়েবসাইটে নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নাম বের করে প্রয়োজনে নোট করে রাখবেন। আপনার নোট করে রাখা নামের মধ্য থেকে যে নামটি বেশি স্পষ্ট বা পরিচিত এবং আপনার কাছে অনেক ভালো লাগে ও প্রাসঙ্গিক সেটি সিলেক্ট করতে হবে।

ব্লগিং করে আয়: ব্লগসাইট খুলুন এবং ভালো মানের একটি থিম সিলেক্ট করুন।

লেখালেখি করে অনলাইনে ইনকামে করতে চাইলে অবশ্যই একটি “লেখালেখির প্লাটফর্ম” দরকার পড়বে যেখানে আপনি আপনার লেখাগুলো প্রকাশ করে থাকবেন।

ব্লগ পোস্টেই লেখার দুটি প্লাটফর্মের কথা বলা হয়েছে। ব্লগসাইট খোলার জন্য আপনি প্রথমে গুগলের “ব্লগার” প্লাটফর্মটি বেছে নিতে পারেন। আপনি যদি ভাল অভিজ্ঞ সম্পূর্ণ হন তাহলে আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেসও বেছে নিতে পারেন।

ব্লগিং করে আয়: কিভাবে একটি প্রশ্ন করবেন তা জেনে নিন

আপনার ব্লগসাইট তৈরি করার সময় অবশ্যই ওয়েবসাইটের ডোমেইন নামের দিকে খেয়াল করবেন। ডোমেইন নামে যেন কোনভাবেই বানান ভুল না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

যখন আপনার ব্লগসাইট খোলা হয়ে যাবে তখন ভালো মানের একটি থিম সিলেক্ট করুন। ব্লগারের অনেক বিভিন্ন থিম রয়েছে সেগুলো ব্যাবহার করতে পারেন অথবা ব্লগারের জন্য বিভিন্ন ফ্রী থিম ও রয়েছে।

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আছে ব্লগারের ফ্রী থিম এভেইলেবল আপনি চাইলে সেগুলোও ডাইনলোড করে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনাকে একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখতে হবে যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে যাবেন। তখন আপনার ব্লগ সাইটে ব্লগের নাম ও থিম সিলেক্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কেননা ব্লগ বা ওয়েবসাইটের নামের উপরই আপনার ব্লগে ভিজিটর সংখ্যা নির্ভর করবে এবং আপনার অনলাইন ইনকামের মূল উৎস হবে ৷ কোন ব্যাক্তি যদি ব্লগ পড়েন তিনি কখনোই এলোমেলো নামের ব্লগ পড়তে চাইবেন না। এবং সেটি আপনি হলেও পড়বেন না।

ব্লগসাইট খোলার সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিকল্প নেই। ব্লগের নাম ও থিম সিলেক্টের ক্ষেত্রে মনে রাখবেন।

  • ব্লগের নাম অবশ্যই লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক হবে।
  • এলোমেলো ব্লগ নেইম ব্যবহার করা যাবেনা।
  • ডোমেইন নেইম অবশ্যই ব্লগ নেইমের সাথে মিল থাকতে হবে।
  • থিম লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক হতে হবে।
  • থিম বারবার পরিবর্তন করা যাবে না।

উপরোক্ত যে বিষয়গুলো মনে রাখার পাশাপাশি আপনাকে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ব্লগের স্ট্রাকচার বা গঠন নিয়ে বেশি নড়াচড়া করা একদম বারণ, এক্ষেত্রে ট্রাফিক কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ব্লগিং করে আয়: নিয়মিত লেখা পাবলিশ করতে থাকুন

এই পোষ্ট টি আপনার প্রতিভার স্মারক। ব্লগ লিখে আয় করতে চাইলে অবশ্যই অবশ্যই লেখার কোয়ালিটি কতটুকু ভালো হতে হবে, সেটি দেখানোর পালা চলুন দেখে নিন কিভাবে লেখার কোয়ালিটি ভালো করতে হবে।

আপনাকে আপনার ব্লগে নিয়মিত লিখতে হবে। কি কি লিখবেন কি বিষয়ে লিখবেন সেটির একটি চার্ট করে রাখতে পারেন। চার্ট দেখে দেখে লিখতে থাকুন। লেখালেখির ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক বিষয় তুলে ধরা হলো:

লেখার বিষয়বস্তুকে সুস্পষ্ট ভাবে ফুটিয়ে তুলুন। যে বিষয়ে লিখবেন সেই লেখার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখুন। লেখার মধ্যে বিষয়বস্তুকে স্পষ্টভাবে লেখাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন।

একটি বিষয় আপনাকে মাথায় রাখবেন হবে যেন। আপনার ব্লগ ভিজিটররা ব্লগ পড়ে কোন প্রশ্ন করার সুযোগ যেন না পায়। আপনি আপনার ব্লগে এমন ভাবে আর্টিকেল পোস্ট লিখবেন যেন কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে বাজে কমেন্ট না করে।

আপনার আর্টিকেল অনেক সুন্দর বিষয়বস্তু যত সুদৃঢ় হবে, আপনার ব্লগের ভিজিটররা ততই আপনার ব্লগে আকৃষ্ট হবে। ব্লগ লিখে আয় করার ক্ষেত্রে খুবই মুখ্য বিষয়।

মৌলিক বিষয় হচ্ছে, যেগুলো নিয়ে আগে কোন ব্লগার কোন ব্লগ সাইটে আর্টিকেল লিখেনি। সবসময় যে আপনাকে মৌলিক ব্লগ লিখতে হবে ব্যাপারটি এমনও নয়। চাইলে আপনিযেকোন বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার ব্লগের মান অনেক বড় ফ্যাক্টর হবে।

ব্লগে আর্টিকেল বা ব্লগ হচ্ছে মনের সুস্পষ্ট ভাষা। এটিকে খবরের মতো চিন্তা ভাবনা না করাই শ্রেয়।  ধারণা কাউকে দিতে গেলে। একটি ব্লগের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি আপনাদের মাথায় রাখতে হবে।

আপনি ব্লগ লিখছেন অর্থাৎ কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।  আলোচনা ছোট হওয়ার কোন মানে হয়না। আর্টিকেল লিখে অনলাইনে আয় করতে চাইলে আর্টিকেলের আকার হবে অনেকটাই দীর্ঘ।

ছোট ছোট কবিতার মতো কখনোই ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আর্টিকেল হয়না ৷ আর্টিকেল বা ব্লগের স্বকীয়তা হচ্ছে। ঘটনার আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ। এটি আপনার মাথায় রাখা খুবই জুরুরী।

একটা কথা মাথায় রাখবেন আপনার ব্লগে কপি পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যের লেখা চুরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের জ্ঞান অনুযায়ী বুদ্ধি দিয়ে লিখুন।

এব্যাপারে গুগোল খুব স্ট্রং। গুগল খুব সুন্দর করেই চুরিবিদ্যা ধরে ফেলতে পারে ৷ অন্যকোন ওয়েবসাইট থেকে লেখা কপি করে আপনার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলে। আপনার ওই আর্টিকেল কোনদিনও ভালো পজিশনে আসবে না এবং রেঙ্ক করবে না।

গুগল এডসেন্স না পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তখন আপনার সাইটে গুগল এডসেন্স সহজে দিবেনা তাই নিজের সামর্থ্য যতটুকু ততটুকু দিয়েই লেগে থাকুন।

প্রথম দিকে ভালো ভালো ব্লগ পাবলিশ করেও ভিজিটর তেমন একটা পাবেন না আপনাকে অনেক ধৈর্য ধরতে হবে কিন্তু আপনাকে তবুও চালিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত আপনার ব্লগে আতিকের পাবলিশ করতে হবে। আপনার নিজের লেখা বন্ধুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

প্রথমদিকে আমাদের যেমন ছিল গুগল সার্চের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের প্রথম ভিজিটর পেতে আমাদের সময় লেগেছিল ২ মাস ৮ দিন। এখন আপনাদের দোয়া ও আপনাদের ভালোবাসায় সেটি দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৬০ হাজারের উপরে। এটি সম্ভব হয়েছে আমি সবসময় লেগে ছিলাম বলেই। আপনিও লেগে থাকুন একদিন সফল হবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রথমদিকে আপনার ব্লগে ভিজিটর না পাওয়ার একটি কারণ হলো, গুগল আপনাকে বিশ্বাস করতে কিছু সময় নেবে। গুগলের কাছে আপনার ব্লগের বিশ্বাসী হতে সর্বোত্তম লেখা পাবলিশ করুন এবং লেগে থাকুন।

ব্লগিং করে আয়: ওয়েবসাইট মনেটাইজেশন করুন

আপনি যদি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করতে চান। তাহলে আপনার ব্লগসাইটকে গুগলের কাছে মনেটাইজেশন করতে হবে। মনেটাইজেশন করার অর্থ হচ্ছে, আপনার ওয়েবসাইটে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া।

ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পাবলিশের পর সকল ব্লগারের যে একটি বড় চাহিদা থাকে। সেটি হল ওয়েবসাইট মনেটাইজেশনের জন্য অনেকগুলো প্লাটফর্ম আছে যেমন,

  • গুগল এডসেন্স দিয়ে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া।
  • ফেসবুক ইন্সটেন্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া।
  • বিডভার্টাইজারের সাহায্যে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া।
  • পপেলারএডস এর মাধ্যমে ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়া ইত্যাদি।

ব্লগিং করে আয়: ওয়েবসাইটের বিভিন্ন যায়গায় এড কোড বসান

আপনার ব্লগে গুগল এডসেন্সের এপ্রোভাল পাওয়ার পর আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন জায়গায় এড কোড বসাতে হবে। যেসব জায়গায় এড কোড বসাবেন সে সব জায়গায় গুগল বিজ্ঞাপন দেখাবে।

বিজ্ঞাপণ প্রদর্শিত হওয়ার পর সেখানে ক্লিক করে কেউ বিজ্ঞাপণ দেখলে আপনি অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। একটা কথা মনে রাখবেন অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। অতি লোভে পড়ে ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ অংশ এড দিয়ে ভরিয়ে তোলা যাবে না। এড কোড বসানোর ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে সকল বিষয়?

আপনার ব্লগে মাত্রাতিরিক্ত এড কোড বসানো যাবে না। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করতে গেলে অনেক ভিজিটর বিরক্ত হয়ে ওয়েবসাইট থেকে বেড়িয়ে যায়। বরংফলে লাভ তো হবেই না। বরং ওয়েবসাইডে ভিজিটর কমে যায়।

একটি ব্লগেএছাড়াও অতিরিক্ত বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করলে ওয়েবসাইটের সার্ফিং টাইম বেড়ে যায় অর্থাৎ পেজ লোড হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন পড়বে। এর ফলে সার্চ ইঞ্জিনে আপনি তলানিতে পড়ে যাবেন।

ভুলেও কখনো নিজের এডে নিজে ক্লিক নয়। গুগল এডসেন্স পাওয়া যতটা সহজ তার চেয়ে কঠিন চাওয়া এটি ধরে রাখা কারণ ওয়েবসাইটে চুন থেকে পান খসলেই গুগল তার এডসেন্স বাতিল করে দেবে।

আপনার ব্লগে আপনার ভিজিটররা এডে ক্লিক করলে আপনার ইনকাম হবে। কিন্তু আপনি যদি আপনি নিজেই ক্লিক করেন এবং আপনার বন্ধু-বান্ধব দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার ব্লগ এ ক্লিক করে, তাহলে কিন্তু এডসেন্স এক্কেবারে ডিজেবল বা বাতিল করে দিবে গুগোল।

আপনার ব্লগে এড কোড বসানোর ক্ষেত্রে একটি ব্যাপার আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেটি হলো- ঘন ঘন এড কোড পরিবর্তন করা যাবে না ৷

ব্লগিং করে আয়: ব্লগ পোস্ট চালিয়ে যান।

নতুন অবস্থায় আয়ের উপর নজর না দিয়ে ব্লগে আর্টিকেল লিখে চালিয়ে যান। পরিশ্রমই সফলতার চাবিকাঠি পরিশ্রম কখনো বিফলে যায়না বরং সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।

আপনার ব্লগে গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার পর প্রথমদিকে তেমন ইনকাম হবে না। কিন্তু আপনাকে কয়েকদিন ধরে ধরতে হবে। দিন যত যাবে, ট্রাফিক তত বাড়তে থাকে। ট্রাফিক বাড়ার সাথে সাথে আপনার ওয়েবসাইট থেকে আয়ের পরিমানও দ্বিগুণ বাড়তে থাকবে।

আপনার ব্লগে নতুন নতুন লেখা পাবলিশ করুন। বন্ধু বান্ধব হোক কাছে, কৌতুহলপূর্ণ বিষয় জানতে চান। তারা যে সকল বিষয় নিয়ে আগ্রহী সেগুলো নিয়ে আপনি আপনার ব্লগে তুলে ধরুন ৷ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যেমন, ফেসবুক, টুইটার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি এর মাধ্যমে নিজের লেখা প্রচার করুন।

আপনার ব্লগের লেখা বন্ধুদের শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করুন। যেভাবে পারেন সেভাবে করে অনুরোধ করুন। যেকোন বৈধ উপায়ে ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বাড়ান। আপনি চেষ্টা থামিয়ে দিলে ব্লগ লিখে আর্নিং করা কঠিন হয়ে যাবে সুতরাং চেষ্টা থামানো যাবে না। কষ্ট মেনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

ব্লগিং করে আয়: গুগল এডসেন্স এর পেমেন্ট মেথড।

আপনি যদি প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে জান তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই নিজের চেষ্টার সফল ফলাফল দেখতে পাবেন। ব্লগিং করে আয় করা অর্থ গুগল এডসেন্স একাউন্টে জমা হবে।

সেই একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করাকে সাধারণত পেমেন্ট রিসিভ বলা হয়। এখন বর্তমানে গুগল এডসেন্স থেকে পেমেন্ট রিসিভ করার সেই চারটি মাধ্যম হল:

  • পেপ্যাল
  • ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড
  • ইন্টারন্যাশনাল ভিসা কার্ড
  • ব্যাংক ওয়ার

বর্তমানে এখন বাংলাদেশে পেপ্যাল এভেইলেবল নয়। এমনকি সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড পাওয়াও অন্তত জটিল। তাই সরাসরি বাংলাদেশের যেকোন ব্যাংকের একাউন্ট দিয়ে সরাসরি গুগল এডসেন্সের টাকা উত্তোলন করা যায়।

ব্লগ থেকে আয় করার অর্থ গুগল এডসেন্সে জমা হয়ে। কমপক্ষে গুগোল অ্যাডসেন্সে ১০০ ডলার হলে গুগল আপনাকে পেমেন্ট রিসিভ করার সুযোগ দিবে। গুগোল অ্যাডসেন্সে ১০০ ডলারের কম হলে টাকা উত্তোলন যায় না।

ব্লগ লিখে আয় করতে চান অথচ আপনি ওয়েবসাইট খুলতে পারছেন না? আপনি কিন্তু চাইলে জে আইটি ওয়েবসাইটেও আপনার লেখা আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারেন। আপনার লেখার মান এবং কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে জে আইটি পেমেন্ট করে।

আপনি চাইলে জে আইটি ওয়েবসাইট থেকে ঘুরে আসতে পারেন। জে আইটি ওয়েব ডিজাইনাররা আপনাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। সেক্ষেত্রে জে আইটি  মেসেঞ্জারে পেজে যোগাযোগ করুন।

ব্লগিং করে আয়: ব্লগ লিখে মাসে কত টাকা আয় করা যায়?

আর্টিকেল লিখে আয় করা যায় আর্টিকেল লিখে প্রতিদিন ৫০ ডলার আয় করুন এরকম চমকপ্রদ লেখায় অনেকেই বিভ্রান্ত হোন। আসলে আর্টিকেল বা ব্লগ লিখে দিনে কত টাকা আয় করা যায় সেটি নির্ভর করবে। আপনার ব্লগের ভিজিটর সংখ্যার উপর এবং ব্লগটিতে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনে কতজন ক্লিক করলো তার সংখ্যার উপর।

এমনও হতে পারে, প্রতিদিন ১ হাজার ভিজিটর এসে ৩০টি ক্লিক করে গেল সেক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ ৪/৫ ডলার। আবার দেখা গেল, ভিজিটর ৪০ হাজার কিন্তু ক্লিক পড়েছে মাত্র ১০টি। সেক্ষেত্রে আয় কমে হবে ২ ডলার।

বাংলাদেশি  ভিজিটরের ১ ক্লিক মাত্র ১০ সেন্ট (কম বেশী হয়ে থাকে) কিন্তু আমেরিকান ভিজিটরের ১ ক্লিক ১০/১৫ ডলার (কম বেশি)  হয়। সুতরাং ভিজিটরের লোকেশনও অনেক বড় ফ্যাক্টর হয়ে থাকে ব্লগ বা ওয়েবসাইটে।

আপনার ব্লগে আবার কি ধরণের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে তার উপরেও আয় নির্ভর করবে ৷ সুতরাং ব্লগসাইট থেকে ইনকাম কত হবে তা নির্ভর করছে তা দেখে নিন।

  • ভিজিটর সংখ্যার উপর।
  • বিজ্ঞাপনে ক্লিক সংখ্যার উপর।
  • ভিজিটরের লোকেশনের উপর।
  • বিজ্ঞাপণের ধরনের উপর।
  • ব্লগসাইটের পপুলারিটির উপর।
  • ব্লগসাইটের বয়সের উপর।

আমাদের কথা,

আপনি আপনার ব্লগ থেকে কত টাকা আয় করতে পারবেন তা বলা কখনোই সম্ভব নয়। আপনি যদি চেষ্টা চালিয়ে জান এবং মৌলিক লেখা পাবলিশ করতে থাকেন। আপনি ব্লগিং করে অনলাইন থেকে ইনকামে পৌছাতে পারবেন।

একদিন আপনার ব্লগে সেটি দৈনিক ১০০০ ডলারও হতে পারে আবার ২ হাজার ডলারও হতে পারে। মনে রাখতে হবে, একটা কথা, ব্লগ সাইটে আয়ের ক্ষেত্রে কোন শর্টকাট টেকনিক নেই। পরিশ্রম করুন ইনশাআল্লাহ একদিন সফল হবেন।

6 thoughts on “ব্লগিং কি? ব্লগিং করে আয় করার সহজ উপায় [মাসে অন্তত 50 হাজার]”

Leave a Comment